বেঈমানীর কথা ডায়েরীতে লিখে প্রেমিকার আত্নহত্যা

30

প্রেমিক নুর মো. দিপু (২৫) অনত্র বিয়ে করায় প্রেমিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেছে। আত্নহত্যার পূর্বে  অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী  নিহত আখি আক্তার (২০) তার ডায়েরীতে লিখে যায় “দিপু আমার সাথে বেঈমানী করেছে”।

নিহত আখি আক্তার লালমনির হাট জেলার হাতিবান্ধা থানার পশ্চিম ফকির পাড়ার মো. আমিনুল ইসলামের মেয়ে। তারা স্ব-পরিবারে পাগলা মধ্য রসুলপুরের মনিরের বাসায় ভাড়ায় বসবাস করে আসছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে ফতুল্লা মডেল থানার পাগলা মধ্য রসুলপুর এলাকায়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মোঃ আব্দুল হালিম আত্নহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে প্রতারক প্রেমিক নুর মোঃ দিপু কে আসামী করে সোমবার(২৪ অক্টোবর) ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে।

ঘটনার পরপরই প্রতারক প্রেমিক আত্নগোপন করেছে।অপরদিকে নিহতের পরিবারে বইছে শোকের মাতম।
অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ দিপু ফতুল্লা মডেল থানার পাগলা মধ্য  রসুলপুর জসিম মার্কেটের বাবুল শেখের পুত্র। সে কাচপুরস্থ কনকা টিভি,ফ্রিজ তৈরি কারখানায় কর্মরত বলে জানা যায়।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুল হালিম জানায় তার বোন নিহত আখি আক্তার ঢাকা ধানমন্ডির ডি,আই,ইউ ইউনিভার্সিটি এন্ড কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। তারা দুই বোন ও এক ভাই। পরিবারের সাথে সে পাগলা রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

দীর্ঘ চার বছর পূর্বে একই এলাকার নুর মোঃ দিপুর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তাদের মধ্য শারিরীক সম্পর্ক ও হয়। ২০-২৫ দিন পূর্বে তাদের পরিবারের লোকজন দিপুর পরিবারের সাথে তার বোনের বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেলে উভয় পরিবারের সম্মত্তিক্রমে আগামী ১৭ নভেম্বর  নিহত আখি আক্তার ও দিপুর বিয়ের দিন ধার্য হয়।

কিন্ত অতি গোপনে ২১ অক্টোবর পরিবারের সম্মত্তিক্রমে দিপু অনত্র বিয়ে করে। এতে করে তার বোন আখি আক্তার মানসীক ভাবে ভেঙ্গে পরে। শনিবার(২২ অক্টোবর) দিপুর সাথে তার বোন দেখা করে। সেখান থেকে ফিরে এসে আরো বেশী হতাশ হয়ে পরে। রোববার সে নিজ কর্মস্থলে ছিলো।

তার বাবা অসুস্থ থাকায় রোববার দুপুর তিনটার দিকে তার মা ও এক চাচা অসুস্থ বাাবকে নিয়ে নারায়নগঞ্জ চাষাড়াস্থ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের নিকট যায়।অপর ছোট বোন কোচিং সেন্টারে পড়তে যায়। এ সময় বাসায় একাই ছিলো নিহত আখি আক্তার। তখন সে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্নহত্যা করে।

বেলা পৌনে চারটার দিকে বাড়ীর  মালিকের স্ত্রী ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে ফোন করে বিষয়টি তার মাকে জানায়। সংবাদ পেয়ে তারা সকলেই ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দেখতে পেয়ে পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ রাত সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান মৃত্যুর পূর্বে তার বোন ডায়েরী তে লিখে যায় ‘দিপু আমার সাথে বেঈমানী করেছে’।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার গোলাম মোস্তফা (১) জানায়, সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে ছয়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের প্রেমিক কে গ্রেফতারের চেস্টা করছে পুলিশ।