প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সশরীরে ক্লাস শুরু ১ মার্চ

175

করোনার ঊর্ধ্বমুখী  সংক্রমণের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার দৈনিক ৩২ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেবে। ১২-১৭ বছর বয়সি এক কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে ৩৪ লাখ শুধু দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছে। আর প্রথম ডোজ পেয়েছে এক কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার।

সেই হিসাবে শ্রেণিকক্ষে বসতে হলে প্রায় ৯৬ লাখ ছাত্রছাত্রীকে উভয় ডোজ টিকা পেতে হবে। তাদের ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে টিকার আওতায় আনা হবে। এর পর ২২ ফেব্রুয়ারি উন্মুক্ত করা হবে শ্রেণিকক্ষের দ্বার।

ইতোমধ্যে ইউনিসেফ-ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা স্কুল খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এভাবে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ দুইয়ের ঘরে থাকা সত্ত্বেও সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

ডব্লিউএইচওর নীতি অনুযায়ী, ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চল কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তবে টিকা দেওয়া থাকলে ব্যতিক্রম চিন্তাও করা যায়। যে কারণে শুধু টিকাপ্রাপ্তরা স্কুলে বসার বিবেচনা পেল।

তবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বুধবার রাতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।  জাতীয় কমিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

এর আগে করোনার সংক্রমণের পর ২০২০ সালের ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথম বন্ধের সিদ্ধান্ত আসে। ৫৪১ দিন ছুটির পর গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি পাঠদান শুরু হয়।

১৩ জানুয়ারি ১১ দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এর পর ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধসহ নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা দেয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রথম দফায় ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল, পরে যা বাড়িয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি করা হয়।