সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই

14

তৌকির আহাম্মেদ হাসু,স্টাফ রিপোর্টারঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অবাধে চলছে পশু জবাই। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করা হচ্ছে। আর এসব পশুর মাংস বিক্রি হচ্ছে পৌরসভাসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন খোলা হাট বাজারগুলোতে। আর এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে মানুষ। উপজেলার পৌর শহরের আরামনগর বড় বাজার, শিমলা বাজারে,ভাটারা বাজার, সানাকৈর বাজার , ফয়েজের মোড়, সিংগুয়া বাজার, ডোয়াইল বালুরচর বাজার, তারাকান্দি ট্রাক স্ট্যান্ড,জগন্নাথগঞ্জ ঘাট বাজার,পিংনা বাজার, সহ বিভিন্ন হাটবাজারে চলছে পশু জবাই।এসব বাজারে কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই দেদারছে জবাই করা হচ্ছে গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরাসরি খোলা মাটিতে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই পশু জবাই করে হচ্ছে। এসব মাংস তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করেন মাংস ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন সময়ে বাজার গুলোতে অসুস্থ রোগাক্রান্ত গরু ও ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠে। ভুক্তোভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসায়ীরা বেশির ভাগ রোগাক্রান্ত পশু বিভিন্ন হাটবাজার ও এলাকা থেকে কম দামে কিনে জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন। এগুলো রাতেই জবাই করে বিভিন্ন এলাকার পাইকারি মাংস বিক্রেতাদের কাছে পাঠিয়ে দেন তারা। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে জামালপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট জবাই খানায় পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্য পরিক্ষার মাধ্যমে পশু জবাই করতে হবে।

এ ব্যাপারে ভাটারা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি রমজান আলী জানান,আমাদের বাজার সমিতির পক্ষ থেকে নির্দেশনা আছে কিন্তু মাংস ব্যবসায়ীরা যে গরুটি অসুস্থ মনে করে সে গরুটি পরীক্ষা করে আর সুস্থ গরু পরীক্ষা করেনা। এ ব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমান বলেন, অসুস্থ গরুর গোশত খাওয়া অবশ্যই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে আমরা এসব পশুর গোশত জব্দ করে মাটিতে পুঁতে ফেলি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরকে জানানো হবে।