সিদ্ধিরগঞ্জে জিনের বাদশা র‌্যাবের জালে

111

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদি নতুন মহল্লা আবাসিক এলাকায় বাসিন্দা জাকির হোসেন (৪১)। করোনা মহামারী শুরু হলে কাজ বন্ধ ছিল, সংসার চালাতেই কষ্ট হয়েছে, এ সময় বিভিন্ন বই পড়ে এবং মাজারের ফকিরদের দেখে জ্বীন ও ঝাড়ফুঁক সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণা নেন। এরপর নিজেই হয়ে গেছেন কথিত ‘জ্বীনের বাদশা’। মানুষকে ফাঁদে ফেলে কিংবা লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকার বেশি। জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে র‌্যাব-১১ এই প্রতারককে প্রকাশ্যে আনেন। জাকির হোসেন বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়া বাকপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে।

র‌্যাব-১১ সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন বলেন, জাকির ১৯৯৫ সালে ঢাকা এসে দীর্ঘ ৭ বছর বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করে। এরপর বিআরটিএ ও পাসপোর্ট অফিসে দালালের কাজ করতেন তিনি। পাশাপাশি চোরাই মোবাইলের কারবারও করতেন ঢাকার মুগদার একটি বাসায় থেকে। ২০১৫ সালে চাঁদপুরের হাইমচরের বিয়ে করেন তিনি।

২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরু হলে তার সকল ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে সস্তায় সাবলেট বাসা নেন নারায়ণগঞ্জে। বিভিন্ন বই পড়ে এবং মাজারের ফকিরদের দেখে জিন ও ঝাড়ফুঁক সম্পর্কিত বিভিন্ন ধারণা নিয়ে অষ্টম শ্রেণি পাস জাকির নিজেই জিনের বাদশা সাজে। সে একটি অন্ধকার কক্ষ ভূতুড়ে পরিবেশ সৃষ্টি করে তাঁর নিজের উপর জিনের বাদশা ভর করেছে বলে প্রচার করতেন। এরপর মাটির হাঁড়িতে বদজ্বীন বন্দি করার নাটক করতেন।

মেজর সাকিব জানান, প্রতারক জাকির মানুষের ফাঁদে ফেলে ও লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি টাকার বেশি। তিনি জিনের বাদশা সেজে ‘বদজ্বীন মাটির হাঁড়িতে’ বন্দি করে প্রতারণা করতেন। সেই টাকায় গোপনে বরিশালের গ্রামের বাড়িতে পাঁচতলা বিশিষ্ট আলিশান বাড়ি নির্মাণ করেছেন। আর দুই/একজনকে একইভাবে ফাঁদে ফেলতে পারলেই সে নারায়ণগঞ্জ থেকে লাপাত্তা হয়ে যেতেন। কারণ ভুক্তভোগীরা সকলেই জানে সে নারায়ণঞ্জের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুজনের কাছ থেকেই ৮০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জাকির। ওই দুজনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়।

তিনি আরো বলেন, ভুক্তভোগীদের একজন নারী, তিনি সন্তানদের নিয়ে ভাড়া থাকেন সিদ্দিরগঞ্জের পাইনাআদি নতুন মহল্লা আবাসিক এলাকায়। আরেকজন ওই নারীর ভগ্নিপতি, তিনি থাকেন কচুয়ায়। এ দুজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জাকিরকে আমরা আটক করেছি। এরই মধ্যে ৪১ বছর বয়সী জাকির ওই নারীর ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে জিনের ভয় দেখিয়ে কোনো প্রকার কাবিন ও স্বাক্ষী ছাড়াই গোপনে কথিত বিয়ে করেছেন। ভুক্তভোগীদের বাড়ি কচুয়া হওয়ায়, ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।