প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে চলছে ইটের ব্যবসা

84

নেএকোণা প্রতিনিধি: নেএকোণা এক শ্রেণির অধিক মুনাফালোভী ব্যবসায়ী নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বিশেষ করে লোকালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা ও ফসলী জমিতে অবৈধ ভাবে গড়ে তুলছে ইট ভাটা। এসব ইট ভাটায় নেই কোন সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া, গ্যাস ও ধুলায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে। হারিয়ে যাচ্ছে জীব-বৈচিত্র্য, বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের চির চেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনে সংশোধনী এনে ইট ভাটার জন্য লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছ

নির্দিষ্ট এলাকায় ইট ভাটার জায়গা ও ভাটার সংখ্যা নির্ধারণ, লাইসেন্সবিহীন ইট ভাটা চালালে দুই বছরের জেল ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান সংযোজন করে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন, ২০১৯’ বিল সংসদে পাস হয়েছে। ধারা-৪ এ সংশোধন এনে প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ইট ভাটা যে জেলায় অবস্থিত সেই জেলার জেলা প্রশাসকের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিরেকে, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিতে পারিবে না। নেত্রকোণা জেলায় আনুমানিক ৬০টি ইট ভাটা রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ২৪টি ইট ভাটা লাইসেন্স নিয়েছে বাকি ৩০-৩৫ টির জেলা প্রশাসক বা কোন পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। এর মধ্যে ৬-৭টি বৈধ -অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। প্রশাসনের চোখে এসব অবৈধ ইটভাটা গুলো কি পড়ে না, সচেতনমহলের প্রশ্ন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নেত্রকোণা জেলায় ৬-৭ টি ইট ভাটা বন্ধ থাকলেও অবৈধ ইটভাটা নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে চালিয়ে যাচ্ছে। জেলার সকল উপজেলায় ইটভাটা গুলো অনায়াসে ইট প্রস্তুত এবং তা পোড়িয়ে যাচ্ছে। কোন ব্যবস্থা ও নিচ্ছেন না প্রশাসন। প্রশাসনকে বৃদ্ধ আঙুল দেখিয়ে চালাচ্ছে এ অবৈধ ইট ভাটা। অন্যদিকে পরিবেশ ও জলবায়ু দূষনের ফলে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রাস্তাও থাকছে না ভাল,বসত বাড়ির পাশে ইট ভাটার বিষাক্ত কালো ধোয়া মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। গাছের ফল-ফলাদিও কমে গেছে। আর এভাবেই অদৃশ্য শক্তির বলে ইট ভাটার কার্যক্রম চলছে। বসত বাড়ি, বসবাসকারীরা প্রায় সর্দি কাশি এবং শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।

নেত্রকোণা জেলার ২৪ টি ইটভাটার মধ্যে সদর উপজেলা- এম বি বি, এম এইচ সি,এন এস বি,এম এইচ সি,এ এস এফ, এম আর এস,এম এইচ কনস্ট্রাকশন -২,এ বি সি, কেন্দুয়া- এইচ এস বি,শাপলা,হিমালয়, বারহাট্টা – আর এম বি, মোহনগঞ্জ – নাবিল,এ কউ সি,এ কে এস।কলমাকান্দা – এস আর এস,পার্টনার কনস্ট্রাকশন, পি এম আর, পূর্বধলা-মুকুল,সান, মদন- জাবেদা, আব্দুল ওয়াহেদ।আটপাড়া -সমতা ব্রিকস। দূর্গাপুর- স্বর্ণা ব্রিকস, এর মধ্যে কয়েকটি বন্ধ রয়েছে। এদিকে অবৈধ ইটভাটাগুলো হলঃ সদর উপজেলা -এ আর এস, বারহাট্টা -আর এম বি(ধলাপাড়া),এনএসএফ, আটপাড়া–নেহাল ব্রিকস, কলমাকান্দা -সৃজন,জনতা,দিদার, পার্টনার কনস্ট্রাকশন,এস আর এস(২),এ এস এফ মোহনগঞ্জ – ডি সি এস, এন বি এল,পূর্বধলা- সততা,ই এস এ,এ এস বি, কেন্দুয়া-এ বি এম, এ এস টি, সনি, এপেক্স, ঢাকা ব্রিকস,টি আই বি ,একতা ,সততা, সোহেল ব্রিকস ইত্যাদি।

ইট ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তর অবৈধ ইটভাটার তালিকা প্রকাশ করলে ও বন্ধ হয়নি অবৈধ ইটভাটা রমরমা ব্যবসার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে ভাটার মালিকেরা। এ ব্যাপারে অনুমদোনহীন ইটভাটার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন,লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করছি তবুও যদি ইটভাটাকে অবৈধ বলেন, তাহলে আমরা কোথায় যাবো,প্রতি বছরেই ডিসি অফিস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাটে রাজস্ব ও আর কয়েক জায়গায় টাকা দিয়েছি আর এভাবেই চালাতে হচ্ছে।

নেত্রকোণা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাবিকুন্নাহার জানান, নেত্রকোণা জেলায় ২৪টি ইট ভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকী ৩৬টি ইট ভাটার কোন পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। জনবল সংকটের কারণে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তারপরও পরিবেশের ছাড়পত্র ছাড়া যে সব ইটভাটার কার্যক্রম চলছে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়াও ইটভাটার মালিকদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নেত্রকোণা বিভাগের কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট সহকারী কমিশনার জানান, নেত্রকোণা জেলায় প্রতিবছর ৪৫ টি ইটভাটার রাজস্ব আদায় করা হয়। এর মধ্যে কোন টা বৈধ কোন টা অবৈধ এই হিসাবে রাজস্ব আদায় হয় না ইটভাটা চালু থাকলেই তাদের ভ্যাট দিতে হবে। বাকিটা জেলা প্রশাসকের বিষয়। যদি কেউ ভ্যাট না দেয় তাহলে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারবেন অন্যতায় নয়।

এদিকে নেত্রকোণা জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলেন,জেলায় যেগুলো ইটভাটার লাইন্সেন্স ও পরিবেশের ছাড়পত্রসহ সকল দিক দিয়ে ঠিক আছে তাদের ছাড়া অন্য যে ইটভাটাগুলো রয়েছে ,যাদের কোনো কাগজপত্র নেই জেলা প্রশাসকের অনুমোদন নেই তাদের পক্ষে আমরা ও নেই সে ব্যাপারে প্রশাসন পদক্ষেপ নেওয়ার বিশেষ অনুরোধ রইলো।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ আবদুর রহমান তিনি বলেন, আমি নির্দেশনা দিয়েছি ,পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।