পুলিশকে চাঁদাবাজ বানাচ্ছে কারা ! উখিয়া থানার নামে সেলিমের বেপরোয়া চাঁদাবাজি

40

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান, কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় থানা পুলিশের নামে পরিবহন থেকে টোকেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে৷ উপজেলার রুমখাঁপালং এলাকার মো. সোনা আলীর ছেলে মো. সেলিমের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। এক সময় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও পরে কোটবাজারের টমটমের (ইজিবাইক) লাইন্সম্যানের কাজ শুরু করেন।

এখন উখিয়া থানার ওসি সঞ্জুর মোর্শেদের নামে টোকেন দিয়ে চাঁদা তুলে তিনি মাসে মোটা অংকের টাকা আয় করেন। ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে সেলিমকে এই টোকেন বাণিজ্যে নামিয়েছেন উখিয়া থানার পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশের টিআই, তুলাবাগান ও কুতুপালংয়ের হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।

অভিযোগ রয়েছে, উখিয়া থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ অবৈধ অটো রিকশা, টমটম ধরে নিয়ে গেলে সেলিম টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে আনতেন। এভাবে পুলিশের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তোলেন তিনি। এক পর্যায়ে উখিয়া থানা পুলিশের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওসির নামে টোকেন বাণিজ্য করে চাঁদা তোলেন তিনি। উখিয়া ট্রাফিক পুলিশ, কুতুপালং হাইওয়ে পুলিশ ও তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের জন্য সেলিমকে উখিয়ায় চলাচল করা সকল অবৈধ গাড়ি থেকে টোকেন দিয়ে টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে মো. সেলিম প্রতিমাসে উখিয়ায় চলাচল করা অবৈধ ডাম্পার, মিনি ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রো, সিএনজি ও ইজিবাইকসহ সব গাড়ি থেকে ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত টোকেন বিক্রি করে মাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করেন। এই টাকা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ে ভাগবাটোয়ারা হয়। সেলিমের টোকেন বাণিজে উখিয়ার সাধারণ গাড়ি চালেকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক অভিযোগ করেন, সেলিমের হাতে উখিয়ার গাড়ির মালিক ও চালকরা জিম্মি। গাড়ির বৈধ কাগজ থাকলেও টোকেন না নিলে রাস্তার গাড়ি বের করা যায় না। টোকেন ছাড়া গাড়ি বের করলে সেলিম পুলিশ দিয়ে গাড়ি ধরিয়ে থানায় নিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে।

এই ব্যাপারে সেলিমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি টোকেন বাণিজ্য করি না। পরিবহন শ্রমিক হিসেবে প্রশাসনের সঙ্গে সু-সম্পর্ক থাকায় ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আমাকে ঘায়েল করতে চাচ্ছে।’ এই ব্যাপারে উখিয়া থানার ওসি সঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘সেলিম নামে কাউকে চিনি না। আমার নামে এরকম টোকেন বাণিজ্য করা হয়, তা আমি জানিই না।’ উখিয়া থানা টোকেন বাণিজ্যমুক্ত বলে দাবি করছেন উখিয়া থানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।